যুগবীক্ষন ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক :
Authored by : Tista Mondal ● Editing & Graphix : Laboni De

কলকাতা,২২ ডিসেম্বর :
বছর ঘুরতেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগেই খেলা জমাতে মাঠে নামলেন তিনি ।তৃণমূলের সদ্য সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবির। এবার নির্বাচনে যুক্ত হল নতুন একটি দল । ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ মুর্শিদাবাদে নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র ঘোষণা করেন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক সোমবার দুপুরে নতুন দলের উদ্বোধনের পরেই তৃণমূলকে হুঙ্কার দেন, ” আগামী বিধানসভা ভোটেই মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্যে নামিয়ে আনব” বলে জানা। একই সঙ্গে এদিন তাঁকে সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গ তুলেও বিঁধলেন মমতাকে, তার কথায়, ‘মালদহে এসে আমাকে সাসপেন্ড করার জন্য কার সঙ্গে কথা বললেন? লালগোলার বিধায়ক মোহাম্মদ আলী, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকারের সঙ্গে। আলোচনা করে বললেন, হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বার করে দিলে কি দলের ক্ষতি হবে? চ্যালেঞ্জ করলাম, আপনার শক্তি থাকলে মুর্শিদাবাদে খাতা খুলে দেখাবেন! তিনি আরও বলেন, বিধানসভার ২২টি আসনে বিজেপি হয়তো ২-১ টা সিট বাড়িয়ে নিতে পারে। তাদের অর্থ বলে, কিন্তু আমি বেঁচে থাকলে মুর্শিদাবাদে জোড়া ফুল শূন্য করব পারলে হুমায়ুন কবিরকে রুখে দেবেন। “
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, বর্তমানে মুর্শিদাবাদের বিজেপির বিধায়ক এর সংখ্যা ২ বহরমপুরে সুব্রত মৈত্র এবং মুর্শিদাবাদে গৌরী শঙ্কর ঘোষ। এছাড়া সাগরদিঘী থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরণ বিশ্বাস পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সোমবার নতুন দল ঘোষণার পর এদিনই ১০ টা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। এরমধ্যে দুটি কেন্দ্রে তিনি নিজে লড়বেন এই দুটি কেন্দ্র ভরতপুর এবং রেজিনগর। অপরদিকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে জেইউপি প্রার্থী হচ্ছেন মনীষা পান্ডে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, মনীষা আগে তৃণমূলে ছিলেন। এছাড়াও হুমায়ুনের দলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্মী সিরাজুল হক মন্ডল। সিরাজুলের দাবি, বর্তমান বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য সেদিন খুইয়েছিলেন চাকরি। ক্ষমতার পালাবদলের পরে আশা করেছিলেন চাকরি ফেরত পাবেন কিন্তু তা পাননি। এখন ফেরিওয়ালার কাজ করে সংসার চালান তিনি। হুমায়ুনের নতুন দলে যোগ দিয়ে , সিরাজুলের মন্তব্য, “আসল গদ্দার তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁকে বারাসাত কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন হুমায়ুন। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর গ্রামীণ কেন্দ্র থেকে জেইউপির প্রার্থী হচ্ছেন ইব্রাহিম হাজি। মালদহের বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে হুমায়ুনের প্রার্থী মুস্তারা বিবি। ভগবানগোলায় প্রার্থী হচ্ছেন অন্য এক হুমায়ুন কবির। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে লড়বে ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র প্রার্থী হিসেবে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন, কিন্তু পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত বদল করেছেন তিনি। নিশা এখানে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি, নিশা-র পরিবর্তে এই স্থানেও মুসলমান প্রার্থী লড়বেন বলে জানানো হয়েছে , এবং সেই প্রার্থীর নাম আগামী সাত দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। এখান থেকে প্রার্থী হবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়।
হুমায়ুনের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়তে পারে। তাদের নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের আর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কের কথায়, ” আমি যদি বেঁচে থাকি আগামী নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্যে নামিয়ে আনব”। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কে বিঁধে তিনি বলেন, “আপনি মানুষকে, ইউজ এন্ড থ্র, করেন ।কত দিন আর এই শক্তি থাকবে! আপনার সঙ্গে যদি কোনও গাদ্দারি করে থাকি, আপনি তো বলবেনই। কিন্তু আপনি কত রকম মিথ্যাচার করেছেন , সেগুলো বাংলার মানুষকে জানাব। সিদ্ধান্ত নেবে মানুষ”। অতএব বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটভূমি যে বেশ সরগরম হয়ে উঠতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।●