YUGABIKSHON NEWS BUREAU REPORT :
Prepared by : Tista Mondal
Published by:Laboni De
যুগবীক্ষণ (YUGABIKSHON)
Last Updated:June 18, 2026 2:35 pm IST

বিধাননগর: যুবভারতীতে লিওনেল মেসির ইভেন্ট সংক্রান্ত ‘মেসিকাণ্ডে’ অবশেষে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন। তলব এড়িয়ে যাওয়ার দীর্ঘ টালবাহানার পর, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি থানায় প্রবেশ করেন এবং আইসি-সহ তিন আধিকারিক তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এই ঘটনার সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ইভেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়ামে অব্যবস্থা, কার নির্দেশে মাঠে প্রচুর মানুষ ঢুকেছিল এবং টিকিট কালোবাজারি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।আদালতের রক্ষাকবচ: ২ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না বলে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তবে তাঁকে নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।পুলিশ এর আগে তাঁর নিউ আলিপুরের বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছিল। ইমেল করে জানানো হয়েছিল। প্রথমবার হাজিরা এড়ানোর সময় শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী। কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও নথি পেশ করতে পারেননি। জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত।
ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। অভিযোগ জানান থানায়। যেখানে শতদ্রু দাবি করেন, মেসি সফরের জন্য ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে গা জোয়ারি করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ নিজেই নিয়েছিলেন। আর তা অন্যত্র বিক্রিও করা হয়েছিল। এমনকী মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকলও প্রাক্তন মন্ত্রী মানতে চাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অরূপ বিশ্বাসকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। একবার নয়, তিনবার নোটিস দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা।
এদিকে, যুবভারতী কাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে লিওনেল মেসির টিমের কাছে ইমেইল করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট । আর সেই ইমেইলের উত্তরে তারা জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে, যুবভারতী কাণ্ডের জন্য সরাসরি দায়ী প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (। মেসির টিমের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী বারবার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন এবং ছবি তোলার জন্য কাঁধে ও কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। অরূপ বিশ্বাস ইচ্ছে করে একাধিক মানুষকে মাঠে ঢোকাচ্ছিলেন, যাদের মাঠে প্রবেশ করার কোনও অধিকারই ছিল না। এমনকি, যেখানে তিনজন মাত্র ফটোগ্রাফারের থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মাঠে উপস্থিত ছিলেন অরূপেরই মদতে ।
তার ফলেই, মেসি রীতিমতো বিরক্ত বোধ করেন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে সেই অভিযোগপত্রে। তাই মেসির পক্ষে আর সেই ইভেন্টে থাকা সম্ভব হয়নি। তবে বাকি ইভেন্টগুলিতে কোনও সমস্যা হয়নি এবং তাই কোনও অভিযোগ নেই।
প্রসঙ্গত ,মেসি কান্ডের পর অরূপের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্পোর্টস ইভেন্ট প্রোমোটার শতদ্রু দত্ত । তিনি আদালতে দাবি করেছেন, মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল মেসির সফরের জন্য। শতদ্রুর দাবি, তার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ একাই নিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যত্র তা বিক্রিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথম হাজিরা এড়ান। এর পর গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন অরূপ। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হাজিরাও এড়িয়ে যান।
অবশেষে গোপন দের থেকে বেরিয়ে আজ থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন তিনি।