যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো :
● Report by : Tista Mondal
●Digital Arrangement : Laboni De
●Graphix : IJMC

●কলকাতা,২০মার্চ : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দিকে দিকে জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে ব্যালট যুদ্ধের প্রচার।ইতিমধ্যেই ১৬ মার্চ , মঙ্গলবার আসন্ন ভোট যুদ্ধের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসক দল। এবার শুক্রবার, ২০ মার্চ ইস্তেহার প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্তেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা’। ‘প্রতিজ্ঞা’ -র এই ইস্তেহারে যথারীতি চমকের পর চমক ,ঢালাও প্রতিশ্রুতি মমতার । মূলত উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত এই ইশতেহারে স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর পরিধি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিই মূল চমক।
: রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য কি কি ‘প্রতিজ্ঞা ‘ থাকছে এই ইস্তেহারে :
● মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত প্রকল্পগুলির মধ্যে সাফল্যমন্ডিত এবং জনপ্রিয় প্রকল্প হল মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার। ভোট আবহে এবার সারা জীবন বাংলার মহিলারা ‘লক্ষীর ভান্ডার’ পাবেন বলে এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
● অপরদিকে রাজ্য বাজেটের শেষ অধিবেশনে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য শাসকদলের নতুন প্রকল্প বাংলার ‘যুবসাথী’ কে কেন্দ্র করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় এক কোটি যুবক, যাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তাদেরকে হাত খরচের জন্য নির্ধারিত টাকা দেওয়া হবে, যতদিন না তারা চাকরি পাচ্ছেন। এপ্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, রাজ্যের অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এই প্রকল্পের কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কেউ যদি অন্যান্য প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকেন সেই যুবকরাও বাংলার ‘যুবসাথী’-র টাকা পাবেন।
● পাশাপাশি কৃষক পরিবারগুলির সার্বিক কল্যাণ ও ভূমিহীন কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ৩০,০০০ কোটি টাকার এক বিশেষ ‘কৃষি বাজেট’ এর কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
● এছাড়া বাংলার প্রতিটি পরিবারের মাথার ওপর পাকা ছাদ তৈরির কথাও উল্লেখ করেন মমতা।
●একইসঙ্গে প্রতিটি ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
● রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম ‘দুয়ারের সরকার’ এর আদলে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবিরের আশ্বাস ইস্তেহারে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মধ্যে থাকবে উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা।
● শিক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে ‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্প চালু করার কথা বলা হয়েছে ইস্তেহারে । এর মাধ্যমে উন্নত হবে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামো।
● বাংলাকে ভারতের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার শ্রেষ্ঠ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে, বিশ্বমানের লজিস্টিকস, বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির কথাও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
● প্রবীনদের ভাতা চালু রাখার কথাও জানিয়েছেন মমতা।
●এই ইস্তেহারের ঘোষণা গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মানুষের কাছে প্রশাসনকে আরও নিবিড়ভাবে পৌঁছে দিতে ৭টি নতুন জেলা তৈরি ও পৌরসভা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখন প্রশ্ন হল প্রতিজ্ঞায় ঠাসা এই ইস্তেহার জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলবে।কতখানি প্রভাব ফেলবে ভোট বাক্সে ? এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মমতার বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পই কিন্তু অতীতের বহু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁকে ভোট খেলায় বিপুল জয় এনে দিয়েছে , এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।এক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভান্ডার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২৬ এর ইস্তেহারেও ‘দুয়ারে চিকিৎসা ‘- র মত প্রবল জনমুখী প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।এখন দেখার প্রতিজ্ঞার এই ইস্তেহার মমতাকে ২০২৬ এর কঠিন ভোট বৈতরণী পার করতে কতটা সাহায্য করে। আগামী ৪ মে -র গর্ভে লুকিয়ে আছে এর উত্তর।
: