যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো
A Report by : Tista Mondal ● Digital Arrangement & Editing by : Laboni De ● Graphix by : IJMC
●কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি : শুক্রবার ভর দুপুরে আবারও হঠাৎ কেঁপে উঠল কলকাতা ।এই নিয়ে চলতি মাসে দুবার।এদিন দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয় শহরবাসীর। প্রায় মিনিটখানেক টানা কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। রিখটার স্কেলে ভূকম্পের মাত্রা ৫.৫।এদিনের ভূমিকম্পের এপিসেন্টার অর্থাৎ উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা।এটি পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি যেমন ভয়ঙ্করভাবে দুলে উঠেছে, তেমনই কলকাতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। ।

শহরের বিভিন্ন বহুতল,ঘরবাড়িতে কম্পন অনুভূত হয়।কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ ও শহরতলীর অধিকাংশ জায়গাতেই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এছাড়া ডানকুনি, চুঁচুড়া থেকে শুরু করে ডায়মন্ড হারবার, গোসাবা- সব জায়গাতেই তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।।কলকাতা সংলগ্ন বেশ কিছু জেলাতেও ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে। হাওড়া জেলায় , দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ,কালিকাপুর সহ বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষজন হালকা থেকে মাঝারি কম্পন টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে । ইতিমধ্যেই বসিরহাটের একাধিক মাটির বাড়িতে চিড় বা ফাটল ধরার খবর এসেছে। ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।কলকাতার গনেশ চন্দ্র ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলও খুব একটা গভীর না হওয়ায় কম্পন জোরাল হয়েছে।
এদিকে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ঘটনার পরই বহু শহরবাসীর মোবাইলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত একটি বার্তা পৌঁছেছে।বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে মানুষজন তাঁদের বাড়ি ঘর পাখা-লাইট দুলে উঠেছে সেই ছবি দিয়েছেন ।ভর দুপুরের এই তীব্র কম্পনে অফিসপাড়া, স্কুল ও জনবসতি পূর্ণ অঞ্চলে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় । কোথাও মানুষ খোলা জায়গায় ছুটছেন, কোথাও পরিবার-সহ দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাড়ির নীচে এমন ছবি দেখা গেছে ।
প্রসঙ্গত এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় একই পরিস্থিতি হয়েছিল। রাত ৯টা নাগাদ সেবার কম্পন অনুভূত হয় শহরে ও রাজ্যের অন্যান্য জেলাতে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার। সেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬। ৩ ফেব্রুয়ারিও বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।
ভূমিকম্পে তিনটি ঢেউ বা ওয়েভ হয়। প্রথম ঢেউ বা প্রাইমারি প্রি-ওয়েভে পুকুরের জল নড়তে দেখা যায়। দ্বিতীয় ঢেউ হল এস ওয়েভ। এই এস ওয়েভে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইতিমধ্যেই বসিরহাটের একাধিক মাটির বাড়িতে চিড় বা ফাটল ধরার খবর এসেছে। ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন সকলেরই প্রশ্ন হল কেন এই ঘন ঘন কম্পন? কম্পন অনুভূত হচ্ছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতেও। বাংলাদেশেও পরপর দুইদিন ভূমিকম্প হল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলিকে সোয়ার্ম অব আর্থকোয়েক বলে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটা বড় ভূমিকম্পের আগে সতর্কতা বলেই মনে করা হয়।জোরাল ভূমিকম্পের পর যেমন আফটার শক হয়, এগুলি তবে ভূমিকম্পের ফোরশক ? এ নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।