যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো :
Authored by : Dr Nirmal Dey ● Presented by : Tista Mondal ● Digital editing by : Laboni Dey

কলকাতা ,১১ নভেম্বর :অবশেষে কাটলো বন্দীদশা।এ যেন শনি-মঙ্গল যোগ। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২৩ জুলাই এক শনিবার কলকাতার নাকতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বাড়ির পথে পার্থ চট্টোপাধ্যায়।মুক্ত হয়ে ফিরলেন এক মঙ্গল বার ! দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর কয়েক মাস আগে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যে , সিবিআই এর মামলায় বিচার পর্ব শুরু হলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এসএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবিরেশ ভট্টাচার্য ও উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিংহের শর্তাধিক জামিন মঞ্জুর করা যাবে। একইসঙ্গে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে চূড়ান্ত জামিন মঞ্জুর করার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার ওই মামলার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয় এবং একইসঙ্গে এদিন আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পার্থকে জেল মুক্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর আদালতের নথি পৌঁছয় প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে, অবশেষে সেখান থেকে তা যায় হাসপাতালে। সূত্রের খবর, পায়ের সমস্যায় ভুগছেন পার্থ, কিন্তু বর্তমানে আগে তুলনায় কিছুটা সুস্থ আছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাইপাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার জেল মুক্তির নির্দেশের পর মঙ্গলবার বাইপাসের ধারে হাসপাতাল থেকে বিকেলে নাকতলার বাড়িতে ফেরেন পার্থ।
পার্থকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সকাল থেকেই হাসপাতালে তার বহু অনুগামীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন তাকে স্বাগত জানাতে মূলত তার পাঁচবারের জেতা বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বহু অনুগামীরা এদিন উপস্থিত হন। তিনি বাইরে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে আগে থেকে ভিড় করে থাকা তার অনুগামীরা ‘পার্থদা জিন্দাবাদ ‘ স্লোগান তুলতে থাকেন। এইসব দৃশ্য দেখে আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন পার্থ। এরপর প্রাক্তন মন্ত্রী কে বাড়িতে বরণ করে নেন তার ভাইয়ের স্ত্রী, উপস্থিত ছিলেন পার্থর ভাই এবং কন্যাও।
দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে নিকটাত্মীয়দের দেখে আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। জেল মুক্তির পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, “আগামী দিনে সত্যের জয় হবে “বলে। একই সঙ্গে বিবৃতিতে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন,” আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যারা আমাকে সৎ মানুষ মনে করে পাঁচবার নির্বাচনে জিতিয়েছেন আমি তাদের কাছেই বিচার চাইতে যাব”। তিনি আরও জানান, “আইনের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম । প্রাথমিক পর্যায়ে সেই সত্যের জয় হয়েছে, আগামী দিনে সত্যের জয় হবে”।