যুগবীক্ষন ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক :
Report by : Tista Mondal ● Editing & Graphix : Laboni De

কলকাতা,২১ ডিসেম্বর :তিনি সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান জানিয়ে বলে থাকেন ” ধর্ম যার যার ,উৎসব সবার ” -হ্যা,তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।এবার কার্যত মমতার কড়া নির্দেশের পরেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলো গঙ্গাসাগর মেলার! সকল হিন্দু ধর্মের মানুষদের কাছে গঙ্গাসাগরের মেলা একটি অতি পূন্য যাত্রা। গত সোমবার নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, মেলার আগে যাবতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করতে হবে বলে। এবার সেই নির্দেশ মেনে পূর্ত দপ্তর সহ একাধিক দপ্তর শুরু করে দিয়েছে প্রস্তুতির কাজ।
সড়কপথে পূর্ণ্যার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য বাবুঘাট থেকে কাকদ্বীপ লট-৮ এবং সাগরের কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এবং ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে কাজ। এর পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সাগরতট সংলগ্ন এলাকায় কিছু ছোটো রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ।
একইসঙ্গে মেলার সময় ভিড় সামাল লট-৮ এবং কচুবেড়িয়ার জেটি ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে, একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে একাধিক অস্থায়ী জেটি যা মেলার সময় ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও কপিলমুনি মন্দিরের কাছে নতুন একটি বাস স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। মূলত পুণ্যার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই এই সিদ্ধান্ত। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা থেকে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের কিছু অংশ মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই কাজও চলছে জোর কদমে। মেলা প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলার বেশিরভাগ দায়িত্ব থাকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ওপর, ইতিমধ্যে এই দপ্তরের আধিকারিকদের একটি দল গঙ্গাসাগরে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মূলত তারাই মেলা প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলার কাজে তদারকি করছেন।
এর পাশাপাশি সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরাও তাঁর দপ্তর থেকে মেলার কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী , এই মাসের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিক, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা দফায় দফায় পরিদর্শনে আসছেন মেলা প্রাঙ্গণ। কাজে যাতে কোনও রকম ফাঁক না থাকে সে বিষয়ে সব দপ্তরকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা কে নিশ্চিদ্র, নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ করার জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।●