যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো :
প্রতিবেদন : তিস্তা মন্ডল ● ডিজিটাল উপস্থাপনা ও গ্রাফিক্স : লাবনী দে
কলকাতা ,৭ নভেম্বর : ক্যান্সার , কর্কট রোগ — নামটি শুনলেই আজকের এই চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চূড়ান্ত অগ্রগতির যুগেও হাড় হিঁম করা অনুভূতি জাগে সকলের মনে।আজও ক্যান্সার, কোনো একটি নির্দিষ্ট বা কয়েকটি দেশ নয় , সমগ্র বিশ্বব্যাপী জীবনহানিকর চ্যালেঞ্জের অপর এক নাম। ভারতে ক্যান্সারের হার ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী, ভারত নতুন ক্যান্সারের ঘটনা সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার এবং মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে সাধারণ। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রতি পাঁচ জন ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে তিন জন মারা যাচ্ছেন। এছাড়াও, রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

বিশ্বব্যাপী নতুন ক্যান্সারের ঘটনার দিক থেকে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট ঘটনার প্রায় ৭.৫%।
পুরুষদের মধ্যে সাধারণ ক্যান্সার: মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার, যার মধ্যে মুখের ক্যান্সারও অন্তর্ভুক্ত, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ।মহিলাদের মধ্যে সাধারণ ক্যান্সার: স্তন ক্যান্সার ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।মৃত্যুহার: একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন মারা যান।
চিকিৎসা: একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রায় ২৮.৫% ক্যান্সার রোগী রেডিওথেরাপি পান, যা আনুমানিক সর্বোত্তম হারের (৫৮.৪%) চেয়ে অনেক কম।
ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে।GLOBCAN (গ্লোবাল ক্যান্সার) ২০২০ রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে ১৩.২৪ লক্ষ নতুন কেস ধরা পড়েছে, যেখানে পুরুষদের মধ্যে ঠোঁট/মুখের গহ্বর (১৬.২%), ফুসফুস (৮%) এবং পেটের ক্যান্সার (৬.৩%) প্রধান, যেখানে মহিলাদের মধ্যে স্তন (২৬.৩%), জরায়ুমুখ (১৮.৩%) এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার (৬.৭%) প্রধান। ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৮,৫১,৬৭৮ জন বলে জানা গেছে।
বিশ্বব্যাপী এই মারক কর্কট রোগে বলির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।ভারত এর ব্যতিক্রম নয়।২০২৪ সালে এদেশে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৮,৭৪,৪০৪। চিকিৎসা বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সাফল্যের যুগে দাঁড়িয়ে আজও ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়ার নির্দিষ্ট কোন আনসার নেই বৈকি।তাই প্রয়োজন সতর্কতার সঙ্গে ধৈর্যের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মিলিয়ে সর্বজনীন লড়াই।এক্ষেত্রে প্রাথমিক সনাক্তকরণ, ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রতিরোধের জন্য আরও জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।সর্বাগ্রে প্রয়োজন সবাই মিলে লড়াই করার সদিচ্ছা। মনে রাখা দরকার ক্যান্সার কোন ব্যক্তিবিশেষ রোগ নয়, এ এক সম্মিলিত মানবের মারণ যজ্ঞ।সবাই মিলেই এই ভয়ঙ্কর বিষাক্ত দানবের বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার নিতে হবে।●