যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক :
যুগবীক্ষণ বিনোদনে বাংলা

কলকাতা, ২৪ নভেম্বর : ” ইয়ে দোস্তি হ্যাম নেহি তোরেঙ্গে”–রীলের বীরু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাণের বন্ধু জয় কে ! রীল লাইফ অসংখ্য তাবড় ভিলেনকে সবক শিখিয়েছেন ! কিন্তু রিয়েল লাইফে ‘মৃত্যু’ নামক দুশমনের কাছে হেরে জয়ের সঙ্গে ‘দোস্তি’ তোরকে চলে গেলেন তিনি ! চলে গেলেন বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এভারগ্রিন হি-ম্যান হিরো ধরম সিং দেওল ওরফে ধর্মেন্দ্র । বহুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।কিছুদিন আগেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়েছিলো গুজব।কিন্তু সবকিছুকে মিথ্যা প্রমান করে সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছিল ধীরে ধীরে ভাল হচ্ছেন তিনি। কিন্তু সোমবার, ২৪ নভেম্বর তাল কাটলো! ৮৯ বছর বয়সে চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা।
১৯৬০ সালে বলিউডে ডেবিউ ধর্মেন্দ্রর । তাঁর প্রথম সিনেমা ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’।তবে কাঙ্খিত সাফল্য আসে ১৯৬৬ এ। বক্স অফিসে ধর্মেন্দ্রর ‘ফুল অউর পাত্থর’ সুপার-ডুপার হিট।এর পর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।সহজেই মহিলামহলের হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন তিনি ।সুদীর্ঘ ছয় দশক ধরে মাতিয়ে রেখেছেন চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের মন। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন।কখনো তিনি সুদর্শন রোমান্টিক নায়ক, কখনো অ্যাংরি ইয়ংআয়রন মাসল ম্যান,আবার কখনো আদ্যন্ত কমেডিয়ান ! অভিনয় করেছেন তিনশোর কাছাকাছি ছবিতে। ‘শোলে’ , ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’, ‘ফুল অউর পাত্থর’ ‘চুপকে চুপকে’, ‘রাম বলরাম’ ,আঁখে,সত্যকাম, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো অসংখ্য ছবিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।ক্যামেরা ছাড়া একদমই থাকতে পছন্দ করতেন না ধর্মেন্দ্র।অভিনয় করেছেন তাঁর দুই পুত্র সানি ও ববির সঙ্গেও। সেই ছবিগুলো হল ‘দিললাগি ‘ ,’আপনে’ এবং ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা ‘ ।আগামী ২৫ ডিসেম্বরে মুক্তির পাবে ধর্মেন্দ্র অভিনীত শেষ ছবি ‘ইক্কিস’।কিন্তু দুঃখ্যের বিষয় তিনি তা দেখে যেতে পারলেন না।
রুপালি পর্দার মতোই রঙিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ।ঘন ঘন রং বদলেছে তাঁর জীবনের ক্যানভাসেও।সিনেমা জগতে আসার আগেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে।স্ত্রী প্রকাশ কৌর। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ধর্মেন্দ্রর চার সন্তান। সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল এবং বিজেতা দেওল। এরপর ১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র বিয়ে করেন ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনীকে। হেমার সঙ্গে ৪৫ টি ছবি করেন তিনি যার অধিকাংশই হিট।রুপালি পর্দার গভীর প্রেমের এই রসায়ন বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হেমা ছিলেন তাঁর ধর্মের ছায়াসঙ্গী হয়ে।এষা দেওল এবং অহনা দেওল ধর্মেন্দ্র-হেমার সন্তান।

তাঁর রাফ-টাফ ইমেজ আর অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল বহু ছবির প্রাণ। তাই তাঁকে অনেকেই বলতেন, বলিউডের হি-ম্যান । তাঁর করা অ্যাকশন ছবি মানেই বক্সঅফিসে নিশ্চিত সাফল্য । বডি ডাবল না নিয়েই বহু ছবিতে অ্যাকশন সিকোয়েন্স করেছেন।বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন ও ধর্মেন্দ্রর মধ্যে একটি অটুট বন্ধুত্ব ছিল , যা ১৯৭৫ সালের লিজেন্ডারি ছবি ‘শোলে’ এর সেটে গড়ে উঠেছিল। ‘জয়’ ও ‘বীরু’র অনস্ক্রিন রসায়ন আজও দর্শক মনে রেখেছে। তাদের মধ্যেকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল. প্রসঙ্গত ধর্মেন্দ্রই ‘জয়’ চরিত্রে অমিতাভ বচ্চনকে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বলে শোনা যায় ।

বহু উচ্চ সম্মানীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি ২০১২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হন ধর্মেন্দ্র।অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জিতে ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিকানের-এর সাংসদ ছিলেন তিনি। প্রয়াত ধর্মেন্দ্র কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, “কিংবদন্তি অভিনেতা-নায়ক ধর্মেন্দ্রজির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ধর্মেন্দ্রজির পরিবার, বন্ধুবান্ধব, ভক্তমহলের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। হেমা মালিনীজি ও পুত্রকন্যারা তাঁর সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার বহন করবেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে ভারতীয় সিনেমার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হল। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরদিন আলোকিত হয়ে থাকবেন ধর্মেন্দ্র। ’