যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো :
●Report by : Tista Mondal
●Graphix : Laboni De
●Digital Arrangement : IJMC
কলকাতা,১৯ মে:গত ২৯ এপ্রিল গোটা রাজ্য জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় দফার ভোট। সেই ভোটেই অনিয়মের কারণে আবার পুনরায় আগামী ২১মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুননির্বাচনের কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে, সেদিক দিয়ে আজ শেষ ভোট প্রচার ফলতায়। নির্বাচনের ঠিক দোরগোড়ায় ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন ফলতার দাপুটে নেতা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়াসি প্রশংসা করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবার ঘোষণা করলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান। দু’দিন আগেই ফলতায় নির্বাচনের সভা থেকে জাহাঙ্গীর খানের ভার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কথা বলে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন’ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এর ঠিক দিন চারেকের মধ্যেই শুভেন্দু ভূয়সি প্রশংসা করে ভোট ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছায়ায় থাকা জাহাঙ্গীর। ফলতার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত এই জাহাঙ্গীর খান। ২৬- এর নির্বাচনের আগে থেকেই খবরের শিরোনামে তিনি। ওই এলাকায় ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের ‘দাবাং’ পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মা কে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটে গত ৪মে , গেরুয়া ঝড়ে ঢাকা পড়ে যায় তৃণমূল। এরই মাঝে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে নিয়েছিলেন রক্ষাকবচও। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না! ঝুঁকতেই হল ‘পুষ্পা’কে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় উন্নয়নের স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই নির্বাচন থেকে আমি সরে দাঁড়াচ্ছি।”
অপরদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে এক লাখেরও বেশি ভোটে জয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। জয় হলে স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করবেন বলেও জানান তিনি। নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জাহাঙ্গীরের এই পলায়নকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ সিপিএম থেকে বিজেপি-র।
আজ জাহাঙ্গির সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, ফলতার মানুষের শান্তির জন্য এবং সোনার ফলতা তৈরির জন্য সরে দাঁড়ালেন। কিন্তু এটা কতটা যুক্তি যুক্ত সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, সোনার ফলতা বানাতে গেলে তাহলে তো তাঁকে লড়াই করতে হবে, তাহলে হঠাৎই কি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেন? তাঁর বিরুদ্ধে ভোটের সময় গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ ছিল ভোটারদের হেনস্থা করার। তারপর যেই পুনর্নিবাচন হল তখন ময়দান ছাড়া তিনি? তাহলে কি তিনি বুঝে গিয়েছেন তাঁর পরাজয় নিশ্চিত?
গত লোকসভা ভোটের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ভোটে লিড দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। অথচ পুনর্নিবাচনের প্রচারের সময় একবারও অভিষেককে দেখাই গেল না জাহাঙ্গিরের পাশে। উল্টো দিকে, শুভেন্দু অধিকারী প্রচারে এলেন। এমনকী, বামফ্রন্ট পর্যন্ত প্রচার করেছে ফলতায়। সেখানে কোথায় অভিষেক?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন। ওনার বস কোথায়? যে রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে হাত দিয়ে দেখাক।’ অপরদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, ‘এরা বড় বড় কথা বলে, এত ঔদ্ধত্য ভয়ে পালিয়ে গেল? সিপিএম বারবার আক্রমণ হয়েছে তাও মাটি কামড়ে থেকে লড়াই চালিয়েছে। এদের মত পালিয়ে যায়নি।’ যদিও এবিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, পুষ্পা ভয় কেন পেল, তা দল খতিয়ে দেখবে বলে। জাহাঙ্গীরের এহেন ঘোষণার পরেই ফলতায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপি নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময় পেরিয়ে গেছে তাই ইভিএম এ নাম থাকবে জাহাঙ্গীরের।