কেন গণেশ চতুর্থীতে মোদক ও লাড্ডু নিবেদন ? চমকপ্রদ অজানা কাহিনী নাকি প্রতীকী তাৎপর্য্য রয়েছে এর পিছনে !

যুগবীক্ষণ ডিজিটাল ডেস্ক : রাত পোহালেই গনেশ চতুর্থী।ভাদ্রপদের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে গণেশের জন্ম হয়। তাই এই পবিত্র দিনটি গণেশ জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়।সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজোয় অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি অতি অবশ্যই মোদক ও লাড্ডু নিবেদন করার রীতি বহু প্রাচীন। কিন্তু কেন গণেশের প্রিয় ভোগ হিসেবে এই দুই প্রকার মিষ্টিই বেছে নেওয়া হয়? এর পিছনে রয়েছে বিভিন্ন চমকপ্রদ পৌরাণিক ও লৌকিক কাহিনি !

একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, একদিন ঋষি অত্রি গণেশকে ভোজনের জন্য আমন্ত্রিত করেন। ঋষি অত্রির স্ত্রী অনুসূয়া আহার পরিবেশন করলে ভোজন শুরু করেন গণেশ।কিন্তু কিছুতেই গণেশের ক্ষুধা নিবৃত্তি হয় না। তাই দেখে অনুসূয়া চিন্তিত হয়ে পড়েন। বাড়িতে কোনও অতিথি তিনি নারায়ণ স্বরূপ। তাঁকে অতৃপ্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া পাপ বৈকি । তখন অনুসূয়া ভাবেন গণেশকে তৃপ্ত করতে কিছু মিষ্টি দেন। সেই সময় অনুসূয়ার কাছে অনেকগুলি মোদক প্রস্তুত করা ছিল। সুস্বাদু মোদক খেয়ে গণেশের মন ও পেট দুই-ই ভরে যায়।তিনি পরম তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন এবং অতি প্রসন্ন হন।এই ঘটনার পর থেকেই গণেশকে তুষ্ট করতে ২১টি মোদক নিবেদন করার প্রথা চালু হয়।

আরেকটি পৌরাণিক কাহিনী বলে একবার মাতা পার্বতী গণেশকে লাড্ডু খেতে দিলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পড়েন।সেই কারণে লাড্ডু গণেশের অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয় । যাঁরা গণেশকে মোদক ও লাড্ডুর ভোগ দেন, গণেশ তাঁর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করেন। এই কারণেই গণেশ পুজোয় মোদক ও লাড্ডু ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়।

পুরাণ অনুযায়ী, একবার দেবতারা শিব ও পার্বতীর কাছে একটি বিশেষ মোদক নিয়ে আসেন। এই মোদকটি সাধারণ কোনো মিষ্টি ছিল না, এর মধ্যে জ্ঞান, বুদ্ধি ও সুখের সারাংশ ছিল। শিব ও পার্বতী ঠিক করেন, কার্তিকেয় ও গণেশের মধ্যে যে বিশ্বপরিক্রমা করে সবার আগে ফিরবে, তাকেই এই মোদকটি দেওয়া হবে। কার্তিকেয় ময়ূরে চড়ে বিশ্ব ভ্রমণে বের হন। কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ তাঁর মা-বাবাকেই সমগ্র বিশ্ব মনে করে তাঁদের প্রদক্ষিণ বা পরিক্রমা করেন। গণেশের এই বুদ্ধিমত্তা ও ভক্তিতে খুশি হয়ে মাতা পার্বতী তাঁকে ওই দিব্য মোদকটি উপহার দেন। সেই থেকেই মোদক গণেশের সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য হিসেবে মনে করা হয়।

:অন্য একটি লোককথায় বলা হয়, ভগবান বিষ্ণুর অবতার পরশুরামের সঙ্গে এক যুদ্ধে গণেশের একটি দাঁত ভেঙে গিয়েছিল। এর ফলে তাঁর পক্ষে শক্ত কিছু চিবিয়ে খাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাঁর জন্য নরম ও সুস্বাদু মোদক বা লাড্ডু তৈরি করা হয়, যা মুখে দিলেই গলে যেত। এরপর থেকেই এটি তাঁর নিয়মিত ও প্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়।

তবে প্রতীকী অর্থের দিক থেকেও গণেশকে মোদক ও লাড্ডু নিবেদনের তাৎপর্য পাওয়া যেতে পারে। ‘মোদক’ শব্দের অর্থ যা আনন্দ দেয় বা খুশি করে। এই মিষ্টির বাইরের অংশটি শক্ত বা নরম আবরণে ঢাকা থাকলেও ভেতরের নারকেল ও গুড়ের পুরটি অত্যন্ত মিষ্টি হয়। এর প্রতীকী অর্থ হলো— আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা সত্যের ভাণ্ডার বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও, তার ভেতর লুকিয়ে থাকে চরম আনন্দ, শান্তি ও পরমানন্দ।অন্যদিকে লাড্ডুর তাৎপর্য:গোলাকার লাড্ডু পূর্ণতা ও ঐক্যের প্রতীক।ভক্তিভরে মোদক ও লাড্ডু নিবেদন করলে সিদ্ধিদাতা গণেশ ভক্তদের জীবন জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোলেন –এই বিশ্বাসেই গণেশ চতুর্থীতে সিদ্ধিদাতাকে এই দুই মিষ্টি ভোগ নিবেদন করা হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *