কড়া নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞার মোড়কে যাদবপুর বিশ্ববিদ‍্যালয় : কোন সময়ের পর আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ – জমায়েত নয় ? জেনে নিন বিস্তারিত

যাদবপুরঃ এবার বেশ কড়া বিধি-নিষেধের দাওয়াই যাদবপুরে !যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে এক গুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাত ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত, পাশাপাশি রবিবার ও ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র না থাকলে প্রবেশকারীকে অন্য বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। পাশাপাশি, কার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, তাঁর নাম ও যোগাযোগ নম্বর-সহ বিস্তারিত তথ্য গেটের রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে হবে। এছাড়া রাত ৮টার পর ক্যাম্পাসে দলবদ্ধ জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, ক্যান্টিন, সুবর্ণজয়ন্তী ভবনের সামনের এলাকা-সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। তবে সান্ধ্যকালীন পড়ুয়ারা এই নিয়মের আওতায় পড়ছেন না।পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শিথিল করা যেতে পারে এই বিধি-নিষেধ । তবে রাত ৯টার মধ্যেই সেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ক্লাসের পড়ুয়ারা বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রেখে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকতে পারবেন।

ক্যাম্পাসে মাদক, মদ বা অন্য কোনও বেআইনি নেশাদ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রাত ৮টার পর বৈধ কারণ বা অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কাউকে পাওয়া গেলে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে সকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটার জায়গা কিংবা সাধারণ যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কড়া বিধি-নিষেধ আনা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও। দু’চাকা ও চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং স্টিকার থাকা বাধ্যতামূলক। স্টিকার না থাকলে প্রবেশের আগে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে চালক ও যাত্রীদের পরিচয়পত্রও দেখাতে হতে পারে।রাতের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে নিরাপত্তাকর্মীদের। কোনও অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে রেজিস্ট্রারের কাছে জানানো যাবে।নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিরূপ ,অসম্মানজনক আচরণ বা ভয় দেখানো হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ।
এখন দেখার বিধি-নিষেধের এই কড়া দাওয়াই কতটা বাস্তবায়িত ও কার্যকর হয় এবং কতটা শৃঙ্খলা ফেরে এর ফলে।আমাদের কড়া নজর থাকবে সেই দিকে বৈকি !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *