যুগবীক্ষণ ডিজিটাল ডেস্ক :
Report by : Tista Mondal ●Graphix : Laboni De ●Digital Arrangement : IJMC

কলকাতা,১৫ মে:টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের কেএমসি ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গড়িয়া কামডহরিতে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ক্লক টাওয়ার। বেআইনি নির্মাণ দেখলে ‘কুইক অ্যাকশন’ নিতে হবে বলে, পূর্বেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই , ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাতেনাতে মিলল একের পর এক প্রমাণ। গড়িয়ায় নিমেষের মধ্যে ধুলিস্যাৎ বেআইনি ক্লক টাওয়ার। তৃণমূল সরকারের জামানায় কোর্টের রায় থাকার সত্বেও যে বেআইনি ক্লক টাওয়ার ভাঙতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুরসভাকে। রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার প্রায় ১০ মাস পর সেই গড়িয়ার কামডহরিতেই বুলডোজারের ধাঁচে হাইড্রা দিয়ে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বেআইনি ক্লক টাওয়ার।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কলকাতা পৌরসভার বুলডোজার অ্যাকশন চলল এদিন। এবিষয়ে গড়িয়া মিতালি সংঘ ক্লাবের তরফ থেকে যে বিষয়টি জানা গেছে তা হল, বছর ৩ আগে গড়িয়া মিতালি সংঘ ক্লাবের খেলার মাঠের এক কোণে তৎকালীন বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ দাসের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এই ক্লক টাওয়ার। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ , বেআইনিভাবে তাদের জমি দখল করে খেলার মাঠে তৈরি করা হয়েছিল ওই ক্লক টাওয়ারটি। কলকাতা পৌরসভার কোনও রকম অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই হয়েছে নির্মাণ কাজ। এবিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি সুরাহা।স্থানীয় কাউন্সিলর সন্দীপ দাসকে বারংবার বলার পরেও এবিষয়ে কোনও রকম সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ । তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি ক্লাবের তরফ থেকে জানালেও কোনও রকম পরিবর্তন হয়নি।
এরপর ক্লাবের তরফ থেকে নেওয়া হয় আইনি পদক্ষেপ। গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট গড়িয়ার কামডহরি ক্লক টাওয়ারকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই তৈরি করা এই টাওয়ার ভাঙ্গতে দুই মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল আদালত। আদালতের নির্দেশের পরেও টাওয়ার ভাঙ্গা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি ভাঙ্গতে গেলে কলকাতা পুরসভাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে এগুলো করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসে স্থানীয়দের তরফে।
অবশেষে সরকার বদল হতেই ভূপতিত হল সুদৃশ্য বেআইনি ঘড়ি স্তম্ভটি।