মোদীর ব্রিগেড জনসভার দিন গিরিশ পার্ক কাণ্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মিলল না কেন ? পুলিশ কমিশনারের সত্বর রিপোর্ট চাইল ক্ষুদ্ধ নির্বাচন কমিশন

●কলকাতা,১৫মার্চ : ২৬ এর বিধানসভা ভোটের আর মাত্র কিছুদিন বাকি।স্বাভাবিকভাবেই এই ভোটকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমে পড়েছে বঙ্গ-বিজেপি। এই অবস্থায় দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।ব্রিগেডের জন সমুদ্রে ৪৫ মিনিটের ভাষণে তিনি কার্যত তুলোধোনা করলেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।তৃণমূল সরকারকে অহংকারী ,নির্মম আখ্যা দিয়ে ডাক দিলেন পরিবর্তনের। পাশাপাশি ভোটমুখী বঙ্গে এদিন মোট ১৮,৬৮০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নরেন্দ্র মোদী এবং সেই সঙ্গে বাজিয়ে দিয়ে গেলেন ভোটযুদ্ধের দামামা।

এদিকে ব্রিগ্রেডে যখন প্রধানমন্ত্রী সেই সময়েই তৃণমূল-বিজেপি এই দুই দলের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার গিরীশ পার্ক অঞ্চল।দুই দলের উন্মত্ত সমর্থকদেরতান্ডব সামলাতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়। একসময় পরিস্থিতি পুলিশের হাতের বাইরে চলে যায়।নামে র‍্যাফ।রাজ্য সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাসভবনে চলে ব্যাপক ইটবৃষ্টি ও ভাঙচুর। এই ঘটনায় ন্ত্রী শশী পাঁজাও অল্পবিস্তর আহত হন বলে অভিযোগ করেন।তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা তাঁকে উদ্দেশ্যে করে থান ইট ছোড়ার চেষ্টা করেছে। ইটের আঘাত লেগেছে তাঁর পেটে। সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা দেখান তিনি।এদিকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বিজেপির কলকাতা উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।তৃণমূলের অভিযোগ, মোদীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে একদল বিজেপি কর্মী শশীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। অভিযোগ গিরিশ পার্কে শশীর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার, ফ্লেক্স ছিল। বিজেপি কর্মীরা সেখান থেকে যাওয়ার সময় বাস থেকে নেমে এসে সেই সব পোস্টার ছিঁড়ে দেন। তার পরে বাসে উঠে যান। এর পরে আবার তৃণমূল কর্মীরা সেই পোস্টার লাগাতে গেলে বাস থেকে নেমে এসে বিজেপি কর্মীরা মারধর শুরু করেন।পাল্টা অভিযোগ করে বিজেপিও। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। আহত হন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। ব্রিগেডগামী বাসেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। দু’পক্ষের অশান্তির মধ্যে পড়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসিও।

দু পক্ষেরই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে তপ্ত হয়ে ওঠা গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনা নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন ওঠে, অশান্তির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়েও।রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। আজকের গন্ডগোলের স্থান যে থানার আওতায় সেখানেও রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।তবুও প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ওই এলাকায় অশান্তি চলল। রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল।তারপরেও সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেখা যায়নি। গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনা নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে সুপ্রতিমকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *