যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ব্যুরো :
Report by : Tista Mondal ●Graphix : Laboni De ●Digital Arrangement : IJMC
কলকাতা,২০ মে :আগেই কথা দিয়েছিলেন যে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সকল দুর্নীতি দমনে বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ,তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দোপাধ্যায় সহ গোটা ব্যানার্জী পরিবারের বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির হিসেবে নেবেন তিনি ! রাজ্যবাসী তিনি ও তাঁর দলকে দু হাত তুলে আশীর্বাদ জানিয়েছেন ,বিপুল ভোট জয়যুক্ত করেছেন।তিনিও কথা রেখেছেন বৈকি !পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যুক্ত মোট ৪৩টি সম্পত্তি পুরসভার স্ক্যানারে নিয়ে এসেছেন।এই তালিকার প্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভা (KMC) অভিষেকের মালিকানাধীন বেশ কিছু ভবনে নিয়মভঙ্গের নোটিশও পাঠিয়েছে।

কলকাতা পুরনিগম অ্যাসেসমেন্ট কালেকশন বা কর রাজস্ব বিভাগ এর সূত্র অনুযায়ী অভিষেকের কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে ?
- মোট সম্পত্তির সংখ্যা ৪৩।
- সবকটি সম্পত্তিতেই পুরসভার তালিকায় নাম নথিবদ্ধ রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর।
- এরমধ্যে একক সম্পত্তির সংখ্যা ১৬।
- অন্য একজনের সঙ্গে যৌথ ( দুটি নামের) সম্পত্তির সংখ্যা ১৮।
- দুটি নামে থাকা সম্পত্তিতে একটি নাম অভিষেক ব্যানার্জির।
- দ্বিতীয় নাম হিসেবে মমতা ব্যানার্জি, সায়নী ঘোষ, অর্পিতা ব্যানার্জি, অঙ্কন ব্যানার্জি, আকাশ ব্যানার্জি , সুদেষ্ণা ব্যানার্জি, মিনতি ব্যানার্জি, মধুমিতা ব্যানার্জি , সায়নী চক্রবর্তীর নাম রয়েছে ১৮ টি সম্পত্তির একেকটিতে।
- বাকি সম্পত্তিগুলি একাধিক ব্যক্তি , সংস্থা, কো-অপারেটিভর সঙ্গে রয়েছে যৌথ উদ্যোগে।
- কালীঘাট রোডে অমিত ব্যানার্জি এবং লতা ব্যানার্জির (পুরসভার নোটিশে সেভাবেই নামগুলি রয়েছে) নামে থাকা একটি সম্পত্তিতেও পুরসভা নোটিশ পাঠিয়েছে।
এবার অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।তাঁর একাধিক ঠিকানায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সূত্রের দাবি, হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণির একাধিক ঠিকানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-বাবা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে কলকাতা পুরসভা ১৭টা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
হরিশ মুখার্জি রোডে ১৮৮-এ ঠিকানায় অবস্থিত ‘শান্তিনিকেতনে’লিপস অ্যান্ড বাউন্সের নামে চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুর আইনের ৪০০-র ১ ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। অথবা কেন করা হল, নিয়মের অন্যথা হল কেন, জানাতে হবে। বাড়ির মধ্যে লিফট, এসক্যালেটর বসাতে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, জানাতে হবে তাও। অন্যথায় কলকাতা পুরসভা নিজেই বেআইনি অংশ ভেঙে দেবে। ভেঙে দেওয়ার খরচাও আদায় করা হবে মালিকের কাছ থেকেই ।
এসবের মধ্যেই অভিষেকের নাম জড়িয়ে ৪৩টি সম্পত্তির ঠিকানা সামনে এনেছে বিজেপি। যদিও সেই লিস্টে দেখা যাচ্ছে, সব বাড়িগুলি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নামে নেই। কোনও সম্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি যুগ্ম মালিক। সূত্রের দাবি, অভিষেকের এই বিপুল সম্পত্তি কীভাবে হল, তা জানতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।পুর আইনের ৪০০(১) ও ৪০১ ধারা অনুযায়ী,এই ৪৩টি সম্পত্তির অভিযোগ সামনে আসার পর, কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে নোটিশ পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সম্পত্তি বা নোটিশের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করা হয়েছে।তবে রকথা বলা বাহুল্য যে রাজ্যে ক্ষমতা হারাতেই বিপাকে TMC।দলের মধ্যে একের পর এক নেতা-নেত্রী একদিকে যখন দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তখন TMC-র তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অ্যাকশনে রাজ্যের নতুন সরকার।সবমিলিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল দলটিই এখন অস্তিত্বের সংকটে প্রহর গুনছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে !
•