না ফেরার দেশে বিখ্যাত জাতীয় অভিনেতা নানা পাটেকার :মৃত্যুর ৪ দিন আগেই বলেছিলেন চলে যাওয়ার কথা !

কলকাতা : বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। গোয়ার ডোনা পাউলায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে CPR দিয়েও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

তবে মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগেও সম্পূর্ণ অন্য ছবিতে দেখা গিয়েছিল অভিনেতাকে। ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাউলায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানেই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে সাদা কুর্তা ও সাদা গামছা পরেছিলেন অভিনেতা। হাসিমুখে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখেন তিনি।সেখানেই তিনি বলেছিলেন ‘একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে।’

শ্যুটিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন গোয়ায়। সেখানে নিজের বাড়িতেই ছিলেন তিনি।৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ার ডোনা পাউলার বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। গুরুতর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর তাঁকে দ্রুত মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ শেখর সালকার জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একটানা CPR দিয়ে অভিনেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সূত্রের  খবর  মধ্যরাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর  বন্ধুকে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু গভীর রাত হয়ে যাওয়ার ফলে, তা দেখেননি বন্ধু। ভোরবেলা সেই মেসেজ দেখার পরেই, নানা পাটেকরের বাড়ি পৌঁছান তাঁর বন্ধু। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল অচৈতন্য অভিনেতাকে। কিন্তু শেষরক্ষা করা গেল না। ভোর সাড়ে পাঁচনা নাগাদ, মৃত বলে ঘোষণা করা হয় অভিনেতাকে।

নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘ইয়েশবন্ত’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘রাজনীতি’ থেকে ‘ওয়েলকাম’—একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।গম্ভীর চরিত্রের পাশাপাশি ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেঠির মতো কমেডি চরিত্রেও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত এই অভিনেতাকে ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়।১৯৭৮-এ মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির হাত ধরে, প্রথম রূপোলি পর্দায় পা রেখেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা। ‘পারিন্দা’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। ‘অঙ্গার’, ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অপহরণ’ ছবিতে অভিনয় করে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা। নানা পাটেকরের পরিচালনায় মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘প্রহার’ দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’-এ তাঁর অভিনয় চিরস্মণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৩-য় পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয় নানা পাটেকরকে।

প্রখ্যাত অভিনেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘শ্রী নানা পাটেকরজির মতো গভীরতা, ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতি খুব কম অভিনেতার থাকে। প্রত্যেক চরিত্রে অবিস্মরণীয় বৈচিত্র্য আর সৃজনশীলতা যোগ করতেন। এমন চরিত্র উপহার দিতেন যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মনে রয়ে যাবে। ওঁর সোজাসাপ্টা, দৃঢ় চিন্তাভাবনার জন্যও প্রশংসিত ছিলেন। যা বিশ্বাস করতেন, বলতে কুণ্ঠাবোধ করেননি কখনও। হিন্দি ও মরাঠি সিনেমায় ওঁর অবদান ভোলার নয়। ওঁর মৃত্যু একটা গভীর শূন্যতা তৈরি করল। ওঁর পরিবার, আত্মীয়-বন্ধু ও সকল অনুরাগীদের জন্য সমবেদনা রইল। ওম শান্তি।’

না ফেরার দেশে চলে গেলেন নানা। রেখে গেলেন সুদীর্ঘ ৪ দশক জুড়ে বিভিন্ন চরিত্রে তার অসাধারণ ভিন্নধর্মী প্রাণবন্ত বাস্তবানুগ অভিনয় সমৃদ্ধ ছবি। সূত্রের খবর, গোয়া থেকে অভিনেতার মরদেহ মুম্বইতে নিয়ে আসা হচ্ছে যথাযোগ্য মর্যাদায় সৎকারের জন্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *