অভিষেককে ম্যারাথন জেরা সিআইডির : ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কোথায় গেলেন তিনি ? কবে ফের তলব ?

কলকাতা : ভবানীভবনে সাড়ে পাঁচ ঘন্টার ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ তিনি সিআইডি দফতরে পৌঁছন। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।রাত ১১:২৭ মিনিট নাগাদ ভবানীভবন থেকে গাড়িতে বেরিয়ে যান।

সিআইডি অফিস থেকে বেরিয়েই অভিষেক তড়িঘড়ি পৌঁছে যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যারে বাড়িতে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, অভিষেকের বেশ কিছু প্রশ্নের জবাবে সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট নন সিআইডি আধিকারিকরা, সেই কারণেই ফের তলবের সিদ্ধান্ত।আগামী ১৪ জুন, রবিবার দুপুর ১২’টার মধ্যে ফের তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে । অন্যদিকে, ১৫ জুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি অফিসে হাজিরার নির্দেশ রয়েছে অভিষেকের।

বৃহস্পতিবার বিকেলেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক৷ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ভবানী ভবনে না গিয়ে প্রথমে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পরে বিকেল পৌনে ৬টা নাগাদ ভবানী ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন৷ বিকেল ৫.৪৯ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবনে পৌঁছন৷ প্রাথমিক কিছু প্রক্রিয়ার পর অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সিআইডি আধিকারিকরা৷

প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের বিধায়কদের সই সহ চিঠি অধ্যক্ষকে পাঠিয়েছিলেন অভিষেক৷ ওই চিঠিতেই বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয় বলে অভিযোগ৷ তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান৷ অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভার সচিব পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন৷ পরে রাজ্য সরকারের নির্দেশে মামলার দায়িত্বভার হাতে নেয় সিআইডি৷

বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে নেমে পর পর তিনবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে সিআইডি। কিন্তু তিনবারই হাজিরা এড়িয়ে যান, এরপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এ দিন দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সিআইডি কর্তাদের মুখোমুখি হন অভিষেক৷ এদিন অভিষেককে বিধায়কদের অনুপস্থিতিতে কেন তাঁদের সই জাল করা হল, সই জাল করার সিদ্ধান্ত কার ছিল, কেন এই জালিয়াতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, এই প্রশ্নগুলিই করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷
আরও জানা যাচ্ছে , যে বিধায়কদের সই জাল করে বিধানসভার অধ্যক্ষকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ, ইতিমধ্যেই তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেছে সিআইডি৷ অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, বাহরুল ইসলামের মতো সেই তৃণমূল বিধায়কদের বয়ান সামনে রেখেই অভিষেকের জন্য প্রশ্নমালা সাজিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা।৷ অভিষেক যা জবাব দিচ্ছেন তা লিখিত ভাবেও নথিবদ্ধ করা হয়েছে৷ সম্পূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে বলে খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *