পদত্যাগ না করতে অনড় মমতা ! নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কি হবে ? সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা ?

কলকাতা,৬ মে :
ভারতীয় সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী হারার পর রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন৷ইতিপূর্বে যতবার শাসক দলের পতন বা পতিবর্তন ঘটেছে এমনটাই দেখা গেছে বৈকি ! কিন্তু বাংলায় ২০২৬ বিধানসভা ভোটে মোমতাবন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকারের পুরোন হওয়ার পরও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না ! মমতার দাবি, জোর করে তৃণমূলকে হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি”।

এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই রীতি মেনে পদত্যাগ না করেন তাহলে কি হবে? এর ফলে নতুন বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে কি ? রাজ্যে কি সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা?

যদিও সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।সাংবিধানিক আইনজ্ঞদের অনেকের মতে সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা ততদিনই নিজেদের পদে থাকেন যতদিন রাজ্যপাল চাইবেন৷নির্বাচন কমিশন মন্ত্রিসভার সময়কাল ৫ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভোট শেষ করায়৷ভোটের ফল বেরনো মাত্রই যাঁরা জয়ী হন সেই তালিকা কমিশন রাজ্যপালকে দেয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠনের দাবি জানায়৷ ফলে আগের সরকারের মেয়াদ এমনিতেই শেষ হয়ে যায়৷ কিন্তু রীতি অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন৷ রাজ্যপাল তখন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই অনুরোধ করেন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি যাতে পুরনো মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েই কয়েক দিন সরকার চালান৷

এখন দেখার ,মমতা বন্দোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে তাঁকে বরখাস্ত করা হয় কিনা ! তবে মমতার পদত্যাগ না করার এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে জনগণের কাছে তার জনদরদী,বাংলাপ্রেমী লড়াকু রাজনীতিবিদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।অধিকাংশের মতেই মমতার এখন উচিত সাংবিধানিক ,গণতান্ত্রিক রীতি মেনে আদর্শ বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া ,যদি সত্যিই তিনি বাংলা ও বাংলার মানুষের মঙ্গল চান কারণ সংসদীয় গণতন্ত্রে দেশ তথা রাজ্যের উন্নতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা শাসক দলের চেয়ে কিছু কম নয় বৈকি !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *