‘‘আগামী ৪ ও ৫ মে আপনারা বাংলায় উপস্থিত থাকবেন।” –কাদের কি কারণে বার্তা দিলেন অভিষেক?

কলকাতা,১৪ এপ্রিল :

–বাংলার বাতাসের প্রতিটি ধূলিকণায় এখন ভোটের চাপা উত্তেজনা।জমিয়ে চলছে বিভিন্ন কায়দায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার ও জনসংযোগএই আবহেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র জালে ধরা পড়ল তৃণমূল ভোট সহযোগী ভটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার I-PAC-এর ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল । দিল্লি থেকে ভিনেশকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগে ২ এপ্রিল ভিনেশ চান্ডেলের দিল্লির বাড়িতে তল্লাশি করা হয়েছিল। চান্ডেলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বলেন, ‘‘বাংলার নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে আইপ্যাক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতার কেবল উদ্বেগজনকই নয়—এটি একটি ‘সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র’ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর মূল ধারণাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।’’
অভিষেকের কথায়, ‘‘যখন পশ্চিমবঙ্গের উচিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, তখন এ ধরনের পদক্ষেপ একটি হাড়হিম করা বার্তা দেয়- আপনি যদি বিরোধী পক্ষের হয়ে কাজ করেন, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন আপনিই। এটি গণতন্ত্র নয়—এটি স্রেফ ভয়ভীতি প্রদর্শন!’’

যে বিষয়টি এই ঘটনাকে উপেক্ষা করা আরও কঠিন করে তোলে, তা হল এই দ্বিমুখী নীতি বা ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’। যারা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি, তারা দলবদল করে পক্ষ পরিবর্তন করলেই যেন মুহূর্তের মধ্যে সুরক্ষা পেয়ে যান; অথচ অন্যদের রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মুহূর্তে দ্রুত নিশানা করা হয়। মানুষ এখন আর এই বিষয়টির প্রতি অন্ধ হয়ে নেই। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলে মনে হতে শুরু করে, তখন মানুষের আস্থা ক্ষয়ে যেতে থাকে। একদিকে নির্বাচন কমিশন; অন্যদিকে ইডি , এনআইএ এবং সিবিআই -এর মতো সংস্থাগুলো—যারা ঠিক সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে ময়দানে নেমে পড়ে। এটি সুষ্ঠু পরিবেশ নয়, বরং ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে। ভারত সর্বদা তার গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করেছে—যা হয়তো কিছুটা কোলাহলপূর্ণ ও অগোছালো, কিন্তু স্বাধীন। কিন্তু আজ অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন: আমরা কি আজও সেই একই দেশ হয়ে আছি?

অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষমতার কাঠামোর প্রতি অভিষেকের বার্তা, ‘‘আগামী ৪ ও ৫ মে আপনারা বাংলায় উপস্থিত থাকবেন। জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনারা যতগুলো সংস্থাকে কাজে লাগিয়েছেন, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আসবেন। বাংলাকে ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না, বাংলার কণ্ঠ রোধ করা যাবে না এবং বাংলা কারো কাছে মাথা নত করবে না। এটি এমন এক মাটি, যা চাপের জবাব দেয় প্রতিরোধ দিয়ে; আর সেই প্রতিরোধের প্রকৃত অর্থ কী—তা বাংলা আপনাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে!’’
তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক আরও বলেন, ‘‘এটি কেবল একটি গ্রেফতারের চেয়েও অনেক বড় একটি বিষয়। মূল প্রশ্নটি হল—আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কি স্বাধীন থাকবে? এবং প্রতিটি নাগরিক—তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস যা-ই হোক না কেন—তারা কি নির্ভয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে? কারণ, একবার স্বাধীনতাকে হটিয়ে সেই জায়গা যদি ভয় দখল করে নেয়, তবে গণতন্ত্র কেবলই একটি শব্দে পরিণত হয়।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *