যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক :
Report by : Tista Mondal
●Digital Editing : Laboni De
●Graphix : IJMC
কলকাতা,১৪ এপ্রিল :

হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা চলতি মাসেই গোটা রাজ্যজুড়ে হতে চলেছে বিধানসভা ভোট। এরই মাঝে কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তে ফের আইপ্যাক কর্তার ঠিকানায় হানা ইডি-র। এবার ইডি-র নিশানায় ভোট কুশলী সংস্থার অন্যতম পরিচালক ও সহ- প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। সোমবার রাতে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। রাজ্যে ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা, দীনেশের গ্রেফতারি নিয়ে সোমবার রাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিষয়ে সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন,” এটি গণতন্ত্র নয়- ভীতিপ্রদর্শন।”
সূত্রের খবর, দিল্লিতে বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-তে চান্দেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২ এপ্রিল ইডি দিল্লিতে চান্দেলের বাসভবন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আইপ্যাক এর আরও এক সহ- প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষিরাজ সিংহের এবং মুম্বাইয়ে আম আদমি পার্টির প্রাক্তন যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই তদন্তকে কেন্দ্র করেই গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে চান্দেলকে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য গত ৮ জানুয়ারি এই মামলায় আইপ্যাক এর দপ্তর এবং সংস্থার আরও এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিলি ইডি। সেখানে অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দপ্তরে ঢোকায় তৈরি হয় বিতর্ক। এরপর আইপ্যাকের এই জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। বর্তমানে এই মামলাটি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীনে।
আইপ্যাক এর ডিরেক্টরের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে অভিষেক সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, ” পশ্চিমবঙ্গে ভোট আর মাত্র ১০ দিন এর আগে আইপ্যাক এর সহ- প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারের ঘটনা শুধু উদ্বেগ জনকই নয়। এটি প্রতিযোগিতার সমান ধারণাটিকেই নড়িয়ে দিয়েছে। যখন পশ্চিমবঙ্গের উচিত ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া তখন এই ধরনের পদক্ষেপ একটি শীতল বার্তা দেয়, আপনি যদি বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করেন তাহলে আপনি পরবর্তী নিশানা হতে পারেন। এটি গণতন্ত্র নয়- ভীতিপ্রদর্শন।”
অভিষেকের অভিযোগ, “যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দল পরিবর্তন করলে সুরক্ষা পান তাঁরা। আর অন্যদের রাজনৈতিকভাবে সুবিধা জনক সময়ে নিশানা করা হয় দ্রুত। যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলি চাপ- রাজনীতির হাতিয়ার বলে মনে হতে শুরু করে তখন বিশ্বাসের ভীত আলগা হতে থাকে। একদিকে নির্বাচন কমিশন , অন্যদিকে ইডি, এনআইএ, সিবিআই এর মত সংস্থাগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে হস্তক্ষেপ করছে, এতে ন্যায়বিচারের নয়, ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।”
পাশাপাশি অমিত শাহ এবং বিজেপিকে নিয়ে আরও জানিয়েছে অভিষেক, ” ৪ এবং ৫ মে আপনারা বাংলায় থাকুন । জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনারা যেসব সংস্থা ব্যবহার করেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে আসুন। বাংলা ভয় পাবে না , চুপ থাকবেনা এবং মাথা নত করবে না। এটি এমন এক ভূমি , যা চাপের জবাব দেয় প্রতিরোধে। সেটির অর্থ কি তা আপনাদের স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া হবে।” বলে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।