যুগবীক্ষণ ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক :
●Report by : K D Niranjan ●Digital Arrangement :Tista Mondal & Laboni De ●Graphix : IJMC
কলকাতা,২১ এপ্রিল : এ যেন দিবাস্বপ্ন ! স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার দোকান থেকে মুড়ি খাবেন ! শুনেই হতবাক অতি সাধারণ মুড়ি বিক্রেতা !অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ। প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনলেন। বিক্রম টাকা নিতে দ্বিধা করছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘‘এ সব হবে না।’’ নিজের পকেট থেকে টাকা বার করে ঝালমুড়ি বিক্রেতার হাতে ধরিয়ে দিলেন তিনি।’

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন প্রচারে জনসংযোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝাড়গ্রামে ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়া এবং খাওয়ানোর ছবি-ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল মোদী র ভাষায় “মুড়ি পে চর্চা ” এখন সর্বত্রই চর্চার বিষয় । কিন্তু কি বলছেন প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো সেই ব্যক্তি যা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে !
বিক্রম সাউ যিনি নির্বাচনী প্রচারের সময় নরেন্দ্র মোদিকে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়ান বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী খেয়েছিলেন, প্রশংসাও করেছিলেন, নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছিলেন, পরিবার কেমন আছে জানতে চেয়েছিলেন।’’ যারা এই দৃশ্য দেখেছিলেন, সবাই অবাক আর খুশি হয়েছিলেন। সবকিছু এত সুন্দর ছিল যে আশপাশের মানুষরা প্রত্যেকেই হাততালি দিতে শুরু করে। কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন, তখন বিক্রম বুঝতে পারলেন যে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগটা হারিয়ে ফেলেছেন, যেটা হয়তো আর কখনও আসবে না। বিক্রম হাসতে হাসতে বলেন, “আফশোস একটাই… প্রধানমন্ত্রী থেকে অটোগ্রাফ নিতে পারলাম না।’’
বিক্রম কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী তার সাধারণ দোকানে ঝালমুড়ি খেতে আসবেন। PM হাসতে হাসতে প্রথমে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেন, খোঁজ-খবর নিলেন, বাবা-মা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। বিক্রম বললেন, তিনি বিহারের গয়া থেকে এসেছেন এবং নবম শ্রেণির পর দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে। প্রতিদিনের আয় ১০০০-১২০০ টাকা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মন দিয়ে তাঁর কথা শুনলেন, ঝালমুড়ির দাম জিজ্ঞেস করলেন এবং টাকা দিতে জোর করেন। বিক্রম টাকা নিতে অস্বীকার করছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মানলেন না। পুরো সময় বিক্রম এতটাই আবেগপ্রবণ এবং ঘাবড়ে ছিলেন যে অটোগ্রাফ চাইবার কথা তার মাথায়ই আসেনি। যখন মোদি চলে গেলেন, তখন তাঁর মনে হল, ইশ ! তিনি যদি একটা সাধারণ পেন আর কাগজ চেয়ে নিতেন।
সারা জীবনের আফশোস রয়ে গেল তার।
বিক্রম খুব খুশি যে প্রধানমন্ত্রী তার দোকানে এলেন,তার হাতের বানানো ঝালমুড়ি খেলেন, প্রশংসা করলেন।তবে বিক্রমের মুখে হাসি থাকলেও কথাবার্তায় স্পষ্ট আফশোসের সুর বৈকি ! নিজেও মানেন যে এই আফশোস ওনার সারা জীবন থাকবে। যখনই বিক্রম নিজের দোকানে ঝালমুড়ি বানাবেন, তখন তার মনে পড়ে যাবে যে একবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন আর তিনি তাকে এতো কাছে পেয়েও অটোগ্রাফ চাইতে পারেননি !