বারুইপুরে ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে এবার সিআইডি তদন্ত ! কি কারন রয়েছে এর পিছনে ?

কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ড এবং খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ অভিযুক্তকে নিয়ে অকুস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিকেরা। এই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলকে ঘটনার পুননির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থলে। সেই সময় পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। অভিযোগ এক রাউন্ড গুলিও চালান অভিযুক্ত, এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান পুলিশ। এরপর এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তের। সূত্রের খবর, দুটি গুলি লেগেছে প্রভাসের, একটি বুকের ডান দিকে এবং আরেকটি গুলি লেগেছে কোমরের উপরে।
রাতের অন্ধকারে পুলিশের এই এইকাউন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জলঘোলা। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কালীঘাট তৃণমূল উত্তর প্রদেশের অতীতের বিভিন্ন এনকাউন্টারের সঙ্গে তুলনা করেছে ঘটনাটিকে। অন্যদিকে , ঋতব্রত তৃণমূল পন্থীরা এই ঘটনায় সরকারের প্রশংসাই করেছেন।
এবার বারুইপুর কান্ডে এনকাউন্টারের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি- কে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত হন বারুইপুর ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় শুরু হয়েছে বিচারবিভাগীয় তদন্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ২০১৪ সালে ‘পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ বনাম মহারাষ্ট্র সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর.এম. লোধার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১৬ দফার একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে। শীর্ষ আদালতের মূল উদ্দেশ্য ছিল এনকাউন্টারের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা ও আইনের শাসন বজায় রাখা।

  • অপরাধমূলক কার্যকলাপ সংক্রান্ত কোনও গোয়েন্দা তথ্য বা গোপন খবর পাওয়া গেলে তা অবশ্যই লিখিত আকারে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে।
  • এনকাউন্টারে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তা অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং সেই এফআইআর এর কপি দ্রুততার সঙ্গে আদালতে পাঠাতে হবে।
  • ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বাধীননিরপেক্ষ তদন্ত আবশ্যক। এক্ষেত্রে যে থানা বা পুলিশের দল এনকাউন্টারের সঙ্গে জড়িত সেই দল এই তদন্ত করতে পারবে না। তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে অন্য কোনও থানার পুলিশ বা রাজ্য সিআইডি-কে।
  • এনকাউন্টারে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত বাধ্যতামূলক।
  • এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তা জাতীয় বা রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কে জানাতে হবে। প্রয়োজনে মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব টিম দিয়ে তদন্ত করাতে পারে।
  • এনকাউন্টারে জখমের ক্ষেত্রে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে।
  • এক্ষেত্রে এনকাউন্টারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিহতের ময়না তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দিতে হবে।
  • অস্ত্র, রক্তের নমুনা, আঙ্গুলের ছাপ সহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সমস্ত ফিজিক্যাল ও ফরেনসিক প্রমাণ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
  • এনকাউন্টারে ব্যবহৃত অস্ত্রটি সংরক্ষণ করতে হবে।
  • তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হবে আদালতে।
  • তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে এনকাউন্টার ভুয়ো ছিল তবে সেই পুলিশ অফিসার কে বরখাস্ত করতে হবে ও তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলার রুজু হবে।
  • এক্ষেত্রে এনকাউন্টার ভুয়ো হলে ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে মৃতের পরিবারকে।
  • এনকাউন্টারে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সমস্ত রকম নথিপত্র দেখার সুযোগ করে দিতে হবে এবং আইনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনুমতি দিতে হবে।
  • এক্ষেত্রে রাজ্যকে এনকাউন্টারে মৃত্যুর সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং সেগুলি এনএইচআরসি-কে জানানো উচিত।
  • এনকাউন্টারের ঘটনায় তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ও প্রকৃত বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত জড়িত অফিসারদের কোনও রকম বীরত্বসূচক পুরস্কার বা সম্মান দেওয়া বা পদোন্নতি করা যাবে না।
    সুতরাং, ২০১৪ সালের জারি হওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে এনকাউন্টারের তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে রাজ্য সিআইডি-কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *