যত কান্ড রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে ! এবার সরে দাঁড়ালেন হুমায়ুন কবীর !

মুর্শিদাবাদ: রাজ্যের দুই কেন্দ্রে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন যেন রঙ্গমঞ্চ ! নাটকের পর নাটক ! এবার রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়ালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। কিছুদিন আগেই নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূল তথা মমতাপন্থী প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান হঠাৎই নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করেন। এরপর নন্দীগ্রামে প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসদের সমর্থনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার দুপুরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, একের পর এক দলীয় কর্মীদের মিথ্যে মামলায় যেভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এরপর আর নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে থাকা যায় না। দলের কর্মীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আমি নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকেই দলের প্রচার কেবলমাত্র চলবে সমাজ মাধ্যমের পাতায়। এবিষয়ে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি একাই রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে আসবো। পরে আমি আমার সিদ্ধান্ত বদল করেছি। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে উপনির্বাচনে
আমাদের দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনও ভোট প্রচারের ময়দানে নামবে না। আমরা ভোট প্রচার করলেই যে সমস্ত দলীয় কর্মী আমাদের সঙ্গে থাকছেন পুলিশ বেছে বেছে তাঁদেরকে গ্রেফতার করছে। গতকাল রাতেই রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ আমার দলের চার গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীকে গ্রেফতার করেছে।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের দলের আর প্রচারের দরকার নেই। মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তাই মেনে নেব। এখন থেকে প্রতিদিন আমি নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতা ব্যবহার করে মানুষকে বোঝাবো, দলের বক্তব্য রাখবো এবং ‘টেবিল’ চিহ্নে আমার পুত্র তথা দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন রাখব। কর্মীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যেখানেই কর্মীদেরকে নিয়ে প্রচারে যাচ্ছি। পরেরদিন তাঁদেরকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। রাজশক্তির যেভাবে অপব্যবহার হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের একাধিক আধিকারিক এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তিনি জানান, “এমসিসি লাগু থাকার সত্বেও পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কোনও কাজ করছে না। এক কথায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আমরা আর মাঠে ময়দানে নেমে প্রচার করব না। আমাদের সমাজ মাধ্যমের পাতা থেকেই আগামী কয়েক দিন দলীয় প্রচার চালানো হবে।” বলে জানিয়েছেন নাওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *