শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার…সঙ্গে আরও কোন তিন তৃণমূল বিধায়ক ?

কলকাতা:মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার । শুধু তিনিই নন, উত্তর ২৪ পরগনার দুই তৃণমূল বিধায়কও ছিলেন বৈঠকে।এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ছাড়াও উপস্থিত দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বিনা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর ঘোষণা করেছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই তাঁদের বৈঠকে ডাকা হয় বলে সূত্রের খবর ।বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর টালমাটাল তৃণমূল।নেতা,পূর্বতন মন্ত্রী সহ কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে রংবদলের দিকে ঝুঁকছেন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা । আবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তথাকথিত অনেক হেভি ওয়েট নেতারাও।

এই আবহে আবারও জোর ধাক্কা খায় জোড়াফুল শিবির। জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবারই তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয় দেন তিনি । একই সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি অনুরোধ করেন কোনও ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থার’ বদলে দলের পুরনো নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে চলার জন্য।দলের দীর্ঘদিনের এই সাংসদের অভিযোগের তীর যে “আইপ্যাক”এর দিকেই তা বোঝার জন্য খুব একটা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না !

প্রসঙ্গত ,কিছুদিন আগেই সংসদে তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপরেই সমাজমাধ্যমে অভিমানী পোস্ট করেন কাকলি। তারপর, রবিবার তৃণমূলের বারাসত সংসদীয় জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি৷ সম্প্রতি তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই বাড়িয়েছে জল্পনা৷এরপরে কোন দিকে এগোবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ? সময় বলবে বৈকি !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *