পালিয়ে বাঁচতে পারলেন না অরূপ ! মেসিকাণ্ডে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে থানায় হাজিরার নির্দেশ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে

কলকাতা: বিপদ কি বাড়ছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ? মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে ফের নোটিস বিধাননগর পুলিশের।এই নিয়ে পরপর ৩ বার অরূপকে নোটিস বিধাননগর দক্ষিণ থানার। নিউটাউন থানার মাধ্যমে চিঠি দিয়ে তলব। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ।
সম্প্রতি অরূপ আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হয়। বারবার হাজিরা এড়ানোর জন্য তাঁকে ব্যাপক ভর্ৎসনাও করে কোর্ট। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ ডাকলে নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। এর পরেই আদালতের নির্দেশ মেনে, ৪৮ ঘণ্টা সময় হাতে রেখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে হাজিরার জন্য তৃতীয় নোটিস পাঠাল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার কথা জানিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। অবৈধ ভাবে পাস বিক্রি-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নোটিস দিয়ে তলব করে পুলিশ। আগে দু’বার নোটিস পাঠানো হলেও হাজিরা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এর পরেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।

গত ১০ জুন, বুধবার সেই মামলার শুনানিতে রক্ষাকবচ পেলেও আদালতে চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়েন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। মামলার শুনানিতে পেপার কাটিং দেখিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অরূপের আইনজীবী কিশোর দত্তকে বলেন, ‘মেসির গায়ে যিনি লেগে রয়েছেন, তিনি আপনার মক্কেল? আপনার মক্কেল কি মেসির ছোটবেলার বন্ধু? একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ হতে পারে ! তাঁর জন্য কলকাতার মানুষের মাথা হেঁট হয়েছে ওই দিন। কী করে তিনি মেসির এত কাছে গেলেন? মেসির নিরাপত্তার জন্য এটা খুব ভয়ানক। আপনার মক্কেলের মন্ত্রী হিসেবে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিল। দেশের অন্য শহরে এত ভালো ভাবে অনুষ্ঠান হলো, আর কলকাতা থেকে মেসি বিরক্ত হয়ে চলে গেলেন। এটা লজ্জা।’ এর পরেই তদন্তে পুলিশকে সবরকম সহায়তার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া শহরের বাইরে যেতে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস, তাও স্পষ্ট করে দেয় কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *