কেন আলাদা তৃণমূল ফ্রন্ট নয় ! কেন অনামী একটি দলের সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা ?

নয়া দিল্লি: শেষ পর্যন্ত রাজধানীতেও তৃণমূল ভেঙে খান খান ! আটকাতর পারলেন না দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় ! কার্যত তাকে ঘোল
খাইয়েই দোল বিরোধী সাংসদরা দলত্যাগ করলেন। তবে দলের অন্দরে আর আলাদা শিবির বা লোকসভায় আলাদা ফ্রন্ট হিসাবে নয়, বরং রবিবার (১৪ জুন) অন্য একটি অনামী দলের সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা । ওই দলের নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া
(Nationalist Citizens Party of India)। এখন থেকে এই এনসিপিআই দলেরই সদস্য দেব শতাব্দী রায় থেকে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এই দল সমর্থন করবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে।

প্রশ্ন হল, কেন তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা শিবির না গড়ে, অন্য দলের সঙ্গে মিশে গেলেন বিদ্রোহী সাংসদরা?প্রথম এবং প্রধান কারণ হিসেবে যেটি উঠে আসছে ,সেটি হলো আইনি জট। এই আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিল ২৮ জন। তার মধ্যে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী তালিকায় । তবে আইন বলছে, একটি দলের অন্দরে দুটি ফ্রন্ট বা শিবির হতে পারে না। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁরা ফেঁসে যাবেন। আইনের এই মারপ্যাঁচ থেকে বাঁচতেই বিদ্রোহী সাংসদদের এই মাস্টারস্ট্রোক বলা যায় ! তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা ঝুঁকি না নিয়ে অন্য দলে মিশে গেলেন।আদালতে যাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্যই বিদ্রোহী সাংসদদের এই চাল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।

প্রসঙ্গত ,হাওড়ার বাঁকরার ঠিকানায় নথিবদ্ধ এই এনসিপিআই পার্টি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই দলেই মিশে গেলেন কাকলি-সুদীপরা। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমরা যারা নির্বাচিত সাংসদ, তারা দলের প্রতি আমাদের ক্ষোভ আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছি এবং আলাদা দল-ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাই। আলাদা বসার চিঠি দিয়েছি আমরা। দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বেশি রয়েছি আমরা। রাষ্ট্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব আমরা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *