প্রথম দিনেই পার ২ হাজার !এবার কী পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন ? নতুন সরকারে আস্থা জনগণের

কলকাতা : রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই কাটমানি দূর করা থেকে শুরু করে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য ,ক্রীড়া থেকে বিনোদন -প্রত্যেকটি আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়ে একাধিক উদ্যোগ তথা কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে । সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে চারটি টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষরা এই নম্বরগুলিতে ফোন করে তাঁরা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

রাজ্য সরকার দুর্নীতি রুখতে এই টোল ফ্রি নম্বর পরিষেবা চালু করতেই মিলেছে ব্যাপক সাড়া। সূত্রের খবর, পরিষেবা চালুর প্রথম দিনেই ২ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে প্রশাসনের কাছে।মঙ্গলবার ভবানী ভবনের একটি অনুষ্ঠান থেকে এই চারটি টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকৃতপক্ষে কাটমানি, সিন্ডিকেট, বেআইনি টোল আদার এবং অবৈধ মদের ব্যবসা নিয়ে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে চালু করা হয়েছিল চারটি হেল্পলাইন নম্বর।

  • প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এই নম্বর গুলিতে অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষেরা। একই সঙ্গে ভুয়ো অভিযোগ বা কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে সরকারের তরফে।এক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগারওয়াল জানিয়েছেন, হেল্পলাইনে আসা সব ফোন কল রেকর্ড করে রাখা হবে। প্রয়োজনে পরে সেই রেকর্ড ব্যবহার করা যাবে অভিযোগ দ্রুত বাছাই করার জন্য। কৃত্রিম মেধা বা এআই ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কত অভিযোগ জমা পড়ল তার মধ্যে কতগুলির সমাধান হলো এবং কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে।
  • মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ পরিষেবা চালুর প্রথম দিনেই বড় সারা সাধারণ মানুষের। শুধুমাত্র উল্লেখিত বিষয়গুলিই নয় এর বাইরেও বহু মানুষ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, জমি-বাড়ির সমস্যা, খারাপ রাস্তা নিকাশি ব্যবস্থা এবং জল জমার মতো বিষয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, কন্ট্রোল রুমে আসা প্রতিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এবং যে বিষয়ে অভিযোগ আসছে সেই দফতর বা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে । সব মিলিয়ে দুর্নীতি রুখতে জনসাধারণের কল্যাণে মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা হেল্পলাইনে প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের সারা ২ হাজার।আগামীদিনে এই সংখ্যা যে কি হতে চলেছে তা অনুমান করতে খুব বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন নেই বৈকি !
    এবার মূল বিষয় হল এই যে সরকার তথা প্রশাসন এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেবে।সকলের নজর থাকছে সেই দিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *