YUGABIKSHON NEWS BUREAU REPORT : যুগবীক্ষণ নিউজ ব্যুরো রিপোর্ট
Prepared by : Tista Mondal
Published by:Laboni De
যুগবীক্ষণ (YUGABIKSHON)
Last Updated: 25 October , 2026 ,12:35 pm (IST)

কলকাতা : রবিবার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের বাড়িতে, রামনগরে যান তিনি। আর সেখান থেকেই একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।সেখানেই স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ, পাস-ফেল ফিরিয়ে আনার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল ফিরিয়ে আনা দরকার। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, আধুনিক ভাষার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চারিত করা দরকার। ব্রতচারী, NSS, প্রতি স্কুলে NCC ফিরিয়ে আনা দরকার।’
পাশাপাশি স্কুলে পাস-ফেল ফেরাতে উদ্যোগী রাজ্যের সিলেবাস কমিটিও। সূত্রের খবর, দুর্গাপূজার রেশ কাটতেই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, প্রাইমারি থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত এখন একেবারে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে পাস-ফেল নেই। এবিষয়ে সিলেবাস কমিটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে মনে করছে, পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সরকারি বিদ্যালয়ে আবার পাস-ফেল চালু করার ব্যাপারে।
পাস-ফেল প্রথা তুলে নেওয়ার পিছনে একটি বড় কারণ ছিল স্কুলছুটের সংখ্যা কমানো।
কিন্তু বর্তমান সরকারের গঠন করা সিলেবাস কমিটির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক্ষেত্রে ফেল করা স্টুডেন্টদের প্রয়োজনে রেজাল্ট প্রকাশের পর বাড়তি ১৫ দিন অথবা একমাস সময় নিয়ে রেমিডিয়াল ক্লাস করিয়ে আবারও একবার পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। ফলে অনূর্তীর্ণ হওয়া পড়ুয়ারা পুনরায় ইম্প্রুভমেন্ট এর সুযোগ পাবে। এরপরেও যদি তাঁরা ফেল করে তাহলে সেক্ষেত্রে তাদেরকে একই ক্লাসেই রেখে দেওয়া হবে। একবারের বদলে পড়ুয়াদের আবার পুনরায় সুযোগ দেওয়া হোক এই মর্মেই আপাতত রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করা হচ্ছে।
সিলেবাস কমিটির চেয়ারপার্সন দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ” এখন পড়ুয়ারা ক্লাস নাইনে গিয়ে সর্বপ্রথম পাস- ফেল এর মুখোমুখি হচ্ছে। নিচু ক্লাসে তাদের ভিত তৈরি হচ্ছে না। উচুঁ ক্লাসে পৌঁছে তাঁরা আর খেই রাখতে পারছে না। তাই অন্তত ক্লাস ফাইভ বা সিক্স থেকে পাস-ফেল থাকা দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা আমাদের জানিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ” অনেক বছর হলো পাস-ফেল উঠে গিয়েছে। কিন্তু স্কুলছুট শুধুমাত্র পাস-ফেল এর জন্যই হয় এমন একমুখী কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরেও মানবিকভাবে স্কুলের ফল প্রকাশের পরে ফেল করা পড়ুয়াদের অতিরিক্ত ক্লাস করিয়ে তাদের আবার একটা পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তাতে ফেল করা পড়ুয়াদের ইয়ার লসের সম্ভাবনা কমে যাবে।’
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, শিক্ষকদের সঙ্গে ওয়ার্কশপ এবং প্রয়োজনে অভিভাবকদের মতামত সংগ্রহ করে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। রাজ্যে পাস-ফেলের এই প্রথা নিয়ে বহুদিন আগে থেকেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেভ এডুকেশন কমিটি দীর্ঘদিন ধরে এবিষয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন করেছে। সেই সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ নস্কর জানিয়েছেন, ১৯৮২ সালে বাম জামানায় প্রাথমিক স্তরে অর্থাৎ ক্লাস ফোর পর্যন্ত সরকারি স্কুলে পাস-ফেল তুলে দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ধর্মঘট হয়েছিল কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন কেন্দ্রীয়ভাবে পাশ হওয়ার পর সারা দেশ জুড়ে সরকারি স্কুলে ক্লাস এইট পর্যন্ত পাস-ফেল তুলে দেওয়া হয়। এরপর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আবার পুনরায় এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়। ২০১৮- তে কেন্দ্রীয় শিক্ষার অধিকার আইনের কিছু সংশোধন করা হয় তাতে ক্লাস ফাইভ এবং ক্লাস এইটে পাস-ফেল ফেরানোর কথা বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
২০২৪-এ এই প্রথা ফেরাবার ব্যাপারে কেন্দ্র উদ্যোগ নিলেও রাজ্য বা দেশে তা কার্যকর হয়নি। তরুণের কথায়, ” সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে একেবারে ক্লাস ওয়ান থেকেই পাস-ফেল থাকতে হবে। ফেল করলে পড়ুয়াকে সেই ক্লাসেই রেখে দিতে হবে।” রাজ্যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিকবার এই বিষয়টি চর্চায় এসেছিল। তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে পাস-ফেলের পক্ষে থাকলেও গত ১৫ বছরে তৃণমূল জামানাতেও তা কার্যকর হয়নি। এবিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমি একাধিক বার দিল্লিকে পাস-ফেল চালু করার জন্য লিখিত বা মিটিংয়ে জানিয়েছি। কিন্তু দিল্লি থেকেই আর কোনও উত্তর বা সবুজ সংকেত আসেনি তাই কার্যকর করা যায়নি।”