শুভমনদের স্বপ্ন চুরমার : ‘চেজমাস্টার ‘ কোহলির দুরন্ত দাপটে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি

কলকাতা : গতবছরই আইপিএল সাবালক হয়েছিল ! এবছর উনিশে পা দিল।কাকতালীয় হলেও পরপর দুবারের চ্যাম্পিয়নই আরসিবি !আইপিএলের প্রথম বর্ষ থেকে উনিশতম পর্ব — সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে ক্রিকেট, বদলেছে টি-টোয়েন্টির সংজ্ঞা, বদলেছে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বহু বিষয় , কৌশল ইত্যাদি । কিন্তু একটি জিনিস অপরিবর্তিত থেকে গিয়েছে–আর সেটা হল বিরাট কোহলির রানের খিদে আর অপরাজেয় মানসিকতা ! যার চাক্ষুস প্রমান মিললো আজও গুজরাটের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আয়োজিত আইপিএল ফাইনালে।

কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও তিনি আগের মতোই দলের পিওধান ভরসা, আগের মতোই ক্ষিপ্র । ফাইনালে তাঁর ব্যাট থেকে এল ৭৫ রান। ছক্কা হাঁকিয়ে ফাইনাল জেতালেন তিনি। ১২ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল আরসিবি। গ্যালারির গর্জন বুঝিয়ে দিচ্ছিল বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বিরাট রাজর জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পরে নি ।গতবার আইপিএল জিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এবার নিজেদের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতল।

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গমগমে ফাইনাল মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল কোহলির বেঙ্গালুরু এবং শুভমন গিলের গুজরাট টাইটান্স। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার।ব্যাট হাতে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় গুজরাট। রাজস্থানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে দলকে ফাইনালে তোলা গিল এদিন থামেন মাত্র ১০ রানে। তাঁর ওপেনিং সঙ্গী সাই সুদর্শনও ব্যর্থ হন, করেন মাত্র ১২ রান। আরসিবির শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে গুজরাট। নিশান্ত সিন্ধুর ব্যাট থেকে আসে ২০ রান, আর দলের অন্যতম বড় ভরসা জস বাটলার ফেরেন ১৯ রান করে।শেষ পর্যন্ত গুজরাটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫। সেই স্কোরটাকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেন মূলত ওয়াশিংটন সুন্দর। যিনি অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুরন্ত সূচনা করে বেঙ্গালুরু। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও বিরাট কোহলির জুটি শুরু থেকেই গুজরাটের বোলারদের চাপে রাখে। ১৬ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ভেঙ্কটেশ ফিরলে দলের রান ছিল ৬২। এরপর দেবদত্ত পাড়িক্কল মাত্র ১ রান করে আউট হন।ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনেন রশিদ খান। এক ওভারেই তিনি তুলে নেন রজত পাতিদার ও ক্রনাল পাণ্ডিয়ার উইকেট। গুজরাট তখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা কিছু অন্যরকমই ভেবে রেখেছিলেন ! কোহলি নিজের স্বভাবসিদ্ধ ধৈর্য, পরিণতিবোধ এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান।তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন টিম ডেভিড। ডেভিড ফেরেন ২৪ রানে। কিন্তু আরসিবির অন্যপ্রান্ত আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোহলি।শেষ পর্যন্ত তিনিই ৭৫ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলে ফাইনালে ‘ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ’ হন।আরসিবির এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে অধিনায়ক রজত পাতিদারও নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন আইপিএলের সফল অধিনায়কদের তালিকায়। এমএস ধোনি ও রোহিত শর্মাদের পাশে এবার উচ্চারিত হবে তাঁর নামও।

আজকের আইপিএল ফাইনালের রাত তাই শুধু আরেকটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়।একটি দলের ধারাবাহিকতার গল্প,স্বপ্নপূরণের গল্প, আর এমন এক ক্রিকেটারের গল্প, যিনি প্রমাণ করে চলেছেন, ‘ফর্ম টেম্পোরারি , ক্লাস পার্মানেন্ট’ , প্রমান করে চলেছেন কিংবদন্তিরা কখনও পুরনো হন না। তাঁরা নতুন নতুন অধ্যায় লিখে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *